জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশিদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড
জাপানে থাকার মজাটাই আলাদা। কিন্তু সেটা পরিবার ছাড়া থাকা মোটেই সহজ নয়।
আপনি যদি জাপানে চাকরি বা পড়াশোনা করেন, তাহলে হয়তো ভাবছেন কীভাবে স্ত্রী, স্বামী বা সন্তানকে কাছে আনবেন। সুখবর হলো, জাপানে এর জন্য আলাদা একটি ভিসা আছে। এটাই জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসা। জাপানে এর সরকারি নাম ফ্যামিলি স্টে (Family Stay) ভিসা।
এই গাইড জাপান ও বাংলাদেশ, দুই জায়গায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য। এখানে আমরা দেখব কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী কাগজ লাগবে, কত সময় লাগবে, VFS Global এর ধাপটা কেমন, আর পরিবার জাপানে পৌঁছানোর পর কী করতে হবে।
চলুন, একদম গোড়া থেকে শুরু করি।
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসা কী?
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসার মাধ্যমে একজন বিদেশি বাসিন্দার স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান জাপানে থাকতে পারেন। যিনি পরিবারকে নিয়ে আসেন, তাঁকে বলা হয় স্পন্সর।
কিছু বিষয় জেনে রাখুন:
- স্ত্রী বা স্বামী মানে আইনিভাবে বিবাহিত সঙ্গী।
- সন্তান মানে আপনার নিজের বা দত্তক সন্তান।
- বাবা-মা ও ভাই-বোন সাধারণত এই ভিসায় আবেদন করতে পারেন না।
- ডিপেনডেন্টরা জাপানে থাকতে ও পড়াশোনা করতে পারেন। কিন্তু ফুল টাইম কাজ করতে পারেন না। পার্ট টাইম কাজের নিয়ম নিয়ে পরে কথা বলব।
পরিবারের থাকার মেয়াদ সাধারণত স্পন্সরের ভিসার মেয়াদের সঙ্গে মিলে যায়। স্পন্সরের ভিসা নবায়ন হলে পরিবারের ভিসাও নবায়ন করা যায়।
কারা পরিবারের স্পন্সর হতে পারেন?
সবাই পরিবার আনতে পারেন না। এটা নির্ভর করে স্পন্সরের ভিসার ধরনের ওপর।
| স্পন্সরের ভিসার ধরন | পরিবার আনা যাবে কি? |
| ইঞ্জিনিয়ার / স্পেশালিস্ট ইন হিউম্যানিটিজ / ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস | হ্যাঁ |
| স্কিলড লেবার | হ্যাঁ |
| বিজনেস ম্যানেজার | হ্যাঁ |
| ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফারি | হ্যাঁ |
| স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার (ii) | হ্যাঁ |
| স্টুডেন্ট | সম্ভব, তবে কঠিন |
| টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেইনি | না |
| স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার (i) | না |
আপনি যদি স্টুডেন্ট হন, তাহলে ইমিগ্রেশন আপনার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো করে যাচাই করে। আপনাকে দেখাতে হবে, ফুল টাইম চাকরি ছাড়াই আপনি পরিবারকে চালাতে পারবেন। স্কলারশিপ বা ভালো সঞ্চয় থাকা গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের সুযোগ বেশি। ভাষা স্কুলের শিক্ষার্থীরা খুব কম ক্ষেত্রেই অনুমোদন পান।
কত আয় থাকলে ভালো?
জাপান এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করে না। ইমিগ্রেশন দেখে, আপনার আয় স্থিতিশীল কি না এবং পরিবারকে চালানোর জন্য যথেষ্ট কি না। নিয়মিত কর দেওয়া আর স্থায়ী চাকরি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পরামর্শদাতা বলেন, দম্পতির জন্য বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ ইয়েন মোটামুটি নিরাপদ। তবে এটা শুধু একটা আন্দাজ, সরকারি নিয়ম নয়।
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসার কাগজপত্র
আপনার দুই সেট কাগজ লাগবে। এক সেট দেবেন জাপানে থাকা স্পন্সর। আরেক সেট দেবেন বাংলাদেশে থাকা পরিবার।
জাপানে থাকা স্পন্সরের কাগজ
এগুলো সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (COE) আবেদনের সঙ্গে জমা হবে:
- ফ্যামিলি স্টের জন্য COE আবেদনপত্র
- পরিবারের সদস্যের পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৪ সেমি x ৩ সেমি)
- স্পন্সরের পাসপোর্ট ও রেসিডেন্স কার্ডের কপি
- সম্পর্কের প্রমাণ: বিয়ের সনদ, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ
- আয়ের প্রমাণ: চাকরির সনদ, কর সনদ, কর পরিশোধের সনদ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট, যদি বাড়তি সঞ্চয় দেখাতে চান
- বসবাসের সনদ (জুমিনহিয়ো)
- ফেরত পাঠানোর জন্য ডাকটিকিট লাগানো খাম
বাংলাদেশে থাকা পরিবারের কাগজ
এগুলো ভিসার আবেদনের সময় লাগবে:
- মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট
- ভিসা আবেদনপত্র
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৪.৫ সেমি x ৪.৫ সেমি)
- মূল COE ও তার একটি কপি
- বিয়ের সনদ ও সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ
- সম্পর্কের বাড়তি প্রমাণ, যেমন বিয়ের ছবি
কাগজপত্র নিয়ে কিছু টিপস
- ইংরেজি বা জাপানি ছাড়া অন্য ভাষার কাগজের অনুবাদ লাগবে।
- বাংলাদেশি বিয়ের সনদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করতে হতে পারে। এটা আগেভাগে দেখে নিন, কারণ এতে সময় লাগতে পারে।
- সব কাগজে নাম হুবহু মিলতে হবে। বানানের ছোট ভুলও দেরি করাতে পারে।
- আপনারা যে সত্যিই স্বামী-স্ত্রী, তার বাস্তব প্রমাণ যোগ করুন। যেমন ছবি, চ্যাটের ইতিহাস, টাকা পাঠানোর রেকর্ড। ইমিগ্রেশনের সন্দেহ থাকলে এগুলো কাজে আসে।
সবসময় জাপান দূতাবাস বা সরকারি ভিসা সেন্টার থেকে সর্বশেষ তালিকা নিশ্চিত করে নিন। নিয়ম বদলাতে পারে।
কাগজপত্র নিয়ে সাহায্য লাগবে? নাকামুরা ট্যুর আপনাকে কাগজপত্র ও ভিসার ধাপ নিয়ে গাইড করবে, যাতে কিছু বাদ না পড়ে। আজই আমাদের ভিসা সাপোর্ট টিমের সঙ্গে কথা বলুন।
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা এভাবে চলে।
ধাপ ১: স্পন্সর COE এর জন্য আবেদন করেন
স্পন্সর জাপানের আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস ব্যুরোতে আবেদন করেন। অনেক সময় নিয়োগকর্তা বা আইনজীবী স্পন্সরের হয়ে আবেদন করে দেন।
ধাপ ২: COE অনুমোদনের অপেক্ষা
ইমিগ্রেশন আপনার কেস যাচাই করে। পুরো যাত্রার মধ্যে এই ধাপে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।
ধাপ ৩: স্পন্সর মূল COE বাংলাদেশে পাঠান
মূল কাগজটাই পাঠাতে হবে। কপি দিয়ে কাজ হবে না। ভরসাযোগ্য কুরিয়ার ব্যবহার করুন এবং ট্র্যাক করুন।
ধাপ ৪: পরিবার বাংলাদেশে ভিসার আবেদন করে
পরিবার ঢাকায় জাপান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ভিসার ফাইল জমা দেয়। এই ধাপটা আমরা পরের অংশে ব্যাখ্যা করেছি।
ধাপ ৫: ভিসাসহ পাসপোর্ট সংগ্রহ
অনুমোদন পেলে পাসপোর্ট ভিসার স্টিকারসহ ফেরত আসে।
ধাপ ৬: জাপানে যাত্রা
ফ্লাইট বুক করুন এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জাপানে ঢুকুন।
আরেকটি ক্ষেত্র: আপনার পরিবার যদি আগে থেকেই অন্য ভিসায় জাপানে থাকে, যেমন স্টুডেন্ট ভিসায়, তাহলে জাপানের ভেতরেই স্ট্যাটাস বদলানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসায় থাকলে সাধারণত এটা অনুমোদিত নয়। সেক্ষেত্রে পরিবারকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আবেদন করতে হবে।
ঢাকায় VFS Global এর মাধ্যমে আবেদন
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা VFS Global পরিচালিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে জাপান ভিসার ফাইল জমা দেন। সাধারণত এটা এভাবে হয়।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। বাংলাদেশের জন্য VFS Global এর জাপান ওয়েবসাইটে যান।
- ফাইল তৈরি করুন। কাগজগুলো ঠিক ক্রমে সাজান। মূল কাগজ ও কপি দুটোই সঙ্গে নিন।
- নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে যান। কর্মীরা আপনার কাগজ যাচাই করবেন এবং দরকার হলে আঙুলের ছাপ নেবেন।
- ফি দিন। যাওয়ার আগে সরকারি পেজে ভিসা ফি ও সার্ভিস চার্জ দেখে নিন।
- আবেদন ট্র্যাক করুন। অনলাইনে বা VFS Global এর দেওয়া পদ্ধতিতে।
ফাইল জমার সময় সাধারণ ভুল:
- মূল COE না আনা
- ছবির মাপ ভুল হওয়া
- সত্যায়ন বা অনুবাদ ছাড়া বিয়ের সনদ
- ফরমের ঘর ফাঁকা রাখা
- অ্যাপয়েন্টমেন্টে দেরিতে পৌঁছানো
সাজানো ও পূর্ণাঙ্গ ফাইল আপনার কয়েক দিন বাঁচিয়ে দেবে। আরেকটা কথা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দূতাবাস নেয়, VFS Global নয়। VFS শুধু আপনার ফাইল নেয় আর ফেরত দেয়।
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসা পেতে কত সময় লাগে?
সময়সূচিটা সহজভাবে দেখে নিন।
| ধাপ | সাধারণ সময় |
| কাগজপত্র জোগাড় | ১ থেকে ৪ সপ্তাহ |
| জাপানে COE প্রক্রিয়া | প্রায় ১ থেকে ৩ মাস |
| বাংলাদেশে COE পাঠানো | ৩ থেকে ৭ দিন |
| ঢাকায় ভিসা প্রক্রিয়া | প্রায় ৫ কর্মদিবস, কখনো বেশি |
| ফ্লাইট বুক ও যাত্রা | ১ থেকে ৪ সপ্তাহ |
সব মিলিয়ে শুরু থেকে জাপানে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৫ মাস ধরে নিন।
দুটো সময়সীমা মনে রাখুন:
- COE এর মেয়াদ ৩ মাস। এর মধ্যেই আপনাকে ভিসার আবেদন করতে হবে।
- ভিসা পাওয়ার পর, ভিসার মেয়াদের মধ্যে জাপানে ঢুকতে হবে।
COE এর মেয়াদ শেষ হতে দেবেন না। শেষ হলে স্পন্সরকে নতুন করে শুরু করতে হবে।
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসার অনুমোদনের হার কত?
সবাই এই প্রশ্নটাই করেন। উত্তর হলো, জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসার জন্য কোনো সরকারি অনুমোদনের হার প্রকাশ করে না। যেসব ওয়েবসাইট বা এজেন্ট বলে "৯৫% সফলতা" বা "১০০% গ্যারান্টি", তাদের থেকে সাবধান থাকুন। তারা এটা প্রমাণ করতে পারে না।
আমরা যা বলতে পারি:
- COE ধাপটাই সবচেয়ে কঠিন। এখানে ইমিগ্রেশন স্পন্সর, আয় ও সম্পর্ক যাচাই করে।
- COE অনুমোদন পেয়ে গেলে দূতাবাসে ভিসা সাধারণত সহজে হয়ে যায়। দূতাবাস মূলত দেখে আপনার কাগজ মিলছে কি না।
কেন আবেদন বাতিল হয়
- স্পন্সরের আয় কম বা অস্থির
- বিয়ে নিয়ে সন্দেহ, যেমন প্রমাণ না থাকা বা কারণ ছাড়া বড় বয়সের ব্যবধান
- কাগজ না থাকা বা ভুল কাগজ
- নাম বা তারিখ না মেলা
- আগে ইমিগ্রেশন সমস্যা থাকা
বাতিল হলে কী করবেন
ঘাবড়াবেন না। আপনি ইমিগ্রেশনের কাছে কারণ জানতে চাইতে পারেন। সমস্যাটা ঠিক করুন, আরও শক্ত প্রমাণ যোগ করুন এবং আবার আবেদন করুন। অনেকে দ্বিতীয়বারে অনুমোদন পান।
জাপানের ফ্লাইট টিকিট কেনা
ভিসা পাসপোর্টে বসার পরই টিকিট কিনুন। আগে কেনা ঝুঁকির। ভিসা দেরি হলে বা বাতিল হলে টাকা হারাতে পারেন।
কিছু টিপস:
- ঢাকা থেকে জাপানের বেশিরভাগ ফ্লাইটে একটি স্টপ থাকে। সাধারণ স্টপ হলো ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুর। মোট প্রায় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা ধরে নিন।
- টোকিও ও ওসাকার মধ্যে তুলনা করুন। জাপানে আপনার বাসার সবচেয়ে কাছের শহরে নামুন।
- ছোট বাচ্চা থাকলে আরামদায়ক ও একটু লম্বা লেওভারের রুট বেছে নিন।
- ব্যাগ গোছানোর আগে লাগেজের নিয়ম দেখে নিন। পরিবারের মালপত্র সাধারণত ভাবনার চেয়ে বেশি হয়।
- পারলে ফ্লেক্সিবল ফেয়ার নিন। পরিকল্পনা বদলাতে পারে।
নাকামুরা ট্যুরের মাধ্যমে ঢাকা থেকে জাপানে আপনার পরিবারের ফ্লাইট বুক করুন। ভাড়া তুলনা করুন, সেরা রুট বেছে নিন এবং নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করুন।
জাপানে পৌঁছে থিতু হওয়া
ভিসা তো শুধু প্রথম ধাপ। জাপানে নামার পর যা যা করতে হবে:
এয়ারপোর্টে
নারিতা, হানেদা ও কানসাইয়ের মতো বড় এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কাউন্টারেই আপনার রেসিডেন্স কার্ড দেওয়া হয়। ছোট এয়ারপোর্টে কার্ড জাপানে আপনার ঠিকানায় ডাকে আসতে পারে।
১৪ দিনের মধ্যে
স্থানীয় সিটি অফিসে গিয়ে আপনার ঠিকানা নিবন্ধন করুন। সঙ্গে পাসপোর্ট ও রেসিডেন্স কার্ড নিন।
প্রথম কয়েক সপ্তাহে
- স্বাস্থ্য বিমা: ন্যাশনাল হেলথ ইনসিওরেন্সে যোগ দিন। স্পন্সরের কোম্পানির প্ল্যান থাকলে সেটাও নিতে পারেন।
- মাই নাম্বার কার্ড: সিটি অফিসে আবেদন করুন।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: নতুন আসা মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় কোনটা, স্পন্সরের ব্যাংকে জিজ্ঞেস করুন।
- ফোন ও ইন্টারনেট: সিম বা হোম ওয়াইফাই তাড়াতাড়ি নিয়ে নিন।
- স্কুল: স্কুলের বয়সী বাচ্চাদের সিটি অফিসের মাধ্যমে ভর্তি করানো যায়।
- হালাল খাবার ও মসজিদ: বেশিরভাগ বড় শহরে হালাল দোকান ও নামাজের জায়গা আছে। আপনার এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটি সবচেয়ে ভালো জায়গাগুলো দেখিয়ে দিতে পারবে। AA Hala Foods-এর মতো অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি পরিষেবাগুলো জাপানের প্রতিটি বড় শহরে তাদের সেবা প্রদান করে।
ডিপেনডেন্ট কি জাপানে কাজ করতে পারেন?
হ্যাঁ, তবে শুধু পার্ট টাইম। আপনার স্ত্রী/স্বামীকে প্রথমে "ভিসার স্ট্যাটাসের বাইরের কাজের অনুমতি" এর জন্য আবেদন করতে হবে। অনুমতি পেলে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। কিছু কাজ, যেমন অ্যাডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট, অনুমোদিত নয়।
বাসা খোঁজা
অনেক পরিবার এখানে সমস্যায় পড়ে। জাপানে ভাড়া বাসার জন্য প্রায়ই গ্যারান্টর, ডিপোজিট ও কি মানি লাগে। পরিবার পৌঁছানোর সময় বাসা তৈরি না থাকলে প্রথম কয়েক রাতের জন্য হোটেল বুক করুন। এতে স্থানান্তরটা অনেক শান্তভাবে হয়।
পৌঁছে থাকার জায়গা দরকার? নাকামুরা ট্যুরের মাধ্যমে জাপানে আপনার প্রথম কয়েক রাতের হোটেল বুক করুন। নতুন শহরে, আপনার পরিবারের বাজেটের মধ্যে হোটেল খুঁজে নিন।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
- স্পন্সরের ভিসায় পরিবার আনা যায় কি না, তা না দেখেই প্রক্রিয়া শুরু করা
- মূল COE এর বদলে কপি পাঠানো
- COE এর মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া
- ভিসা তৈরি হওয়ার আগে টিকিট কেনা
- আগের ভিসা বাতিলের মতো ছোট সমস্যা লুকানো
- যে এজেন্ট অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, তাকে বিশ্বাস করা
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
আমার বাবা-মা কি জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসা পেতে পারেন?
সাধারণত না। ফ্যামিলি স্টে ভিসা শুধু স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানদের জন্য। বাবা-মা অন্য উপায় দেখতে পারেন, যেমন স্বল্পমেয়াদি ট্যুরিস্ট ভিসা।
ডিপেনডেন্ট ভিসায় আমার স্ত্রী কি জাপানে কাজ করতে পারবেন?
হ্যাঁ, তবে পার্ট টাইম। আগে অনুমতি নিতে হবে। তারপর সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ করা যাবে।
স্টুডেন্ট কি জাপানে পরিবার আনতে পারেন?
কখনো কখনো পারেন। স্টুডেন্ট স্পন্সরকে দেখাতে হবে, পরিবারকে চালানোর মতো যথেষ্ট টাকা আছে। ওয়ার্ক ভিসাধারীদের তুলনায় এটা কঠিন।
COE ছাড়া কি ভিসার আবেদন করা যায়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে না। COE ই মূল কাগজ। এটা ছাড়া প্রক্রিয়া লম্বা হয় এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
পরিবার কত দিন জাপানে থাকতে পারবে?
থাকার মেয়াদ সাধারণত স্পন্সরের ভিসার সঙ্গে মেলে। স্পন্সর নবায়ন করলে পরিবারও নবায়নের আবেদন করতে পারে।
শেষ কথা
জাপান ডিপেনডেন্ট ভিসায় ধৈর্য লাগে। প্রক্রিয়া লম্বা, আর কাগজপত্র সঠিক হতে হয়। কিন্তু জাপানে পরিবারের সঙ্গে থাকা সবকিছু বদলে দেয়।
একটা একটা ধাপ করে এগোন। মজবুত কাগজ তৈরি করুন, তাড়াতাড়ি শুরু করুন এবং শর্টকাট এড়িয়ে চলুন।
নাকামুরা ট্যুরের সঙ্গে আপনার পরিবারের যাত্রা শুরু করুন। আমরা ভিসা গাইডেন্স, ফ্লাইট টিকিট, হোটেল বুকিং ও আরও অনেক সেবা দিই। আজই আমাদের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জাপানে আপনার যাত্রা সহজ করে দেব।